বাবলু আকন্দ; মুক্তাগাছায় যুবদল ও ছাত্রদল নেতাদের জড়িয়ে ফেসবুকে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোঃ শহীদুল ইসলাম শহীদ| শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় মুক্তাগাছা প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোঃ শহীদুল ইসলাম শহীদ|
এ সময় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক কামরুজ্জামান লেবু, যুগ্ম আহবায়ক হাফিজুর রহমান খান মঞ্জু, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নূরে হাসানুজ্জামান সোহাগ, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাকিল, উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ ফরাজি, পৌর ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সুলেমান সহ উপজেলা-পৌর বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন|
লিখিত বক্তব্যে মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোঃ শহীদুল ইসলাম শহীদ জানান, আমার গ্রামের বাড়ী ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের ভাবকি গ্রামে| আমার পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা বাঁশাটি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি খান রাইস মিলের মালিক মজনু খান গং| আমি গ্রামের বাড়ীতে অবস্থান না করায় দীর্ঘদিন যাবৎ আমার পারিবারিক সম্পত্তি বেদখলের চেষ্টা করে আসছে|
বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বাবু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন সরকার, তার জামাতা যুবলীগের সভাপতি মাহবুবুল আলম মনি ও সাধারণ সম্পাদক লুৎফর হায়দার রাসেলের মদদপুষ্ট আওয়ামী লীগের ডোনারখ্যাত ৫নং বাঁশাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মজনু খান ও তার ভাইয়েরা আমার নিজ সম্পত্তি জোরপূর্বক আমার ফুফাতো ভাই হবিকে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের সময়ে শহরের দরগাপাড়ে মনিরের কথিত আয়না ঘরে এনে মারধর ও রক্তাক্ত জখম করে|
আমার ফুফু মজনু গংদের ভয়ে ফুলবাড়িয়ায় লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে অপহরণ করে লুৎফর হায়দার রাসেল এর নামে সাড়ে ১৯শতাংশ জমি জোরপূর্বক লিখিয়ে নেয়| প্রকৃত পক্ষে আমার ফুফু ঐ জমির মালিকই নন| যা আমার ফুফু ওয়ারিস সূত্রে প্রাপ্যদি সকল সম্পত্তি অনেক আগেই আমার পিতা মরহুম ফয়েজ উদ্দিন বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন এবং সে জমি অন্যত্র বিক্রি করেছে যার প্রমানাদি আমাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে|
প্রকৃতপক্ষে মজনু খান গং উক্ত জমি জবর দখলের উদ্দেশ্যেই প্রথমে লুৎফর হায়দার রাসেলের নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে নেন| পরবর্তীতে রাসেল মজনু খান গংদের ঐ জমি লিখে দেন| আমি দীর্ঘদিন রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়ে পালিয়ে থাকায় জমিটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি| বিগত ৫ আগস্টের অভ্যুথ&থানের পর বিনা বাঁধায় আমার জমি পুনরুদ্ধার করি| এদিকে ইন্টেরিম সরকারের সময় ডেভিল হান্ট অপারেশনে মজনু গ্রেফতার হয়ে জেল খাটে| মজনু খান জেল থেকে জামিনে বের হয়ে আরও বেশি বেপোরোয়া হয়ে উঠে| ইতোমধ্যে জয়দা এলাকায় হিন্দু পরিবারের সম্পত্তি জবর-দখল সহ নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা মানববন্ধন করে তার বিচার দাবী করেছে|
গত ১৫ তারিখ বুধবার দুপুরে আমার ঐ জমিতে মজনু খান গং ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নিলে আমি থানা পুলিশের স্মরণাপন্ন হই| পুলিশ যথারীতি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়| এমতাবস্থায় ঐ দিন রাতে পুনরায় সকলের অলক্ষে মজনু খান গং নির্মাণ কাজ করতে থাকে|
খবর পেয়ে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের সদস্যরাা ঘটনা স্থালে যায়| এ সময় ছেলেরা অবধৈভাবে নির্মাণ করা গৃহের জিনিসগুলো একপাশে রেখে দেয়| এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের জড়িয়ে যে খবরটি প্রচারিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মান হানিকর| তিনি পুনরায় এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং প্রকৃত অপরাধী ভূমিদস্যু মজনু খান গংদের দৃস্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করেন| সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন শহীদুল ইসলাম শহীদ|

0 Comments