নিহত শিশু উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। সে মুক্তাগাছা শহরের রেসিডেন্সিয়াল মাদ্রাসার ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার বেলা ১১টার পর থেকে ওই শিশুকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতে শিশুটি নিঁখোজ উল্লেখ করে পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তাগাছা থানায় জিডি করা হয়। শিশুটির বাবার সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ শনিবার সকালে নূর মুহাম্মদ খোকন(২০) নামের পাশের বাড়ির এক কলেজছাত্রকে আটক করে নিয়ে আসে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের প্রেক্ষিতে আটক খোকন জানায়, সে অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত। শিশুটির পিতা জহিরুল ইসলাম জুয়া খেলায় বিভিন্ন সময় বাঁধা দেওয়াসহ জুয়ার বিষয় নিয়ে তার সাথে খোকনের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। তার বাবার প্রতি ক্ষোভ থেকে খোকন শিশুটিক প্রথমে অপহরণ ও পরে হত্যা করে লাশ গুম করে রাখে। পুলিশ খোকনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে সঙ্গে নিয়ে শনিবার দুপুরে অভিযানে নামে। পরে খোকনদের বাড়ির ল্যাট্রিনের রিং স্লাবের ভেতর থেকে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় বন্দি অবস্থায় ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করে।
শিশুর বাবা জহিরুল ইসলাম জানান, তিনি খোকনকে বিভিন্ন সময় জুয়া খেলায় নিষেধ করতেন। খোকন একজনের কাছে অনলাইন জুয়া খেলার এক লক্ষ টাকা পেতেন। তিনিসহ কয়েকজন মিলে কিছুদিন আগে সেই টাকা উদ্ধার করে দেন। খোকনের প্রতিশ্রুতি মতো সেখান থেকে একটি অংশ তারা নিয়ে নেন। এসব থেকে খোকন ক্ষুব্দ হয়। খোকন তার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। তিনি তার শাস্তি দাবী করেন।
মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল হাসান জানান, শিশু নিখোঁজ হয়েছে মর্মে শুক্রবার তার বাবা থানায় জিডি করেন। তার প্রেক্ষিতে শনিবার দুপুরে নূর মুহাম্মদ খোকন(২০) নামের পাশের বাড়ির একজনকে সন্দেহ ভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খোকন হত্যার কথা স্বীকার করে। এর সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে।

0 Comments