ফুলবাড়িয়া, প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় গাংবড়ইল গ্রামে আদালতের নির্দেশে জমি দখল বুঝিয়ে দিতে গেলে বিবাদী পক্ষ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি এবং পুলিশের উপর দেশিয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করে। এঘটনায় ৪ জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে করাদন্ড ও জরিমানা করা হয়।
গতকাল বুধবার সাজাপ্রাপ্তদের ফুলবাড়িয়া থানা থেকে করাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি রাশেদুল হাসান। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে গাংবড়ইল গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মোজাম্মেল (৪৫), আবু রায়হান (৪২), ত্রিশাল উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল আলিম (৩০) কে ৭ দিন করে ও গাংবড়ইল গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৮) কে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা অনাদায়ে প্রত্যেকের তিন দিনের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ফুলবাড়িয়া উজেলার রাধাকানাই গাংবড়ইল গ্রামে এক শতক জমির দখল বুজে পেতে স্থানীয় আব্দুল্লাহেল কাফী বাদী হয়ে মোজাম্মেল (৪৫) কে আসামী করে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ২০ এপ্রিল বাদী পক্ষকে জমি বুঝিয়ে দিতে বিচারক রায় দিয়েছে। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার বিকালে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শেখ তাকী তাজওয়ার পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে জমির দখল বুঝিয়ে দিতে যায়। এসময় বিবাদীর পক্ষের ২০/ ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশিয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগ, ওসি রাশেদুল হাসান অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ৮ টার দিকে ৬ জনকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। পরে রাত ১ টার দিকে ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও জরিমানা করা হয়। একজন উৎসক জনতা ও আরেকজন অপ্রাপ্ত বয়স হওয়া মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ তাকী তাজওয়ার বলেছেন, সরকারি আদেশে গাংবড়ইল এলাকায় পুলিশ নিয়ে জমির দখল বুজিয়ে দিতে গেলে লাঠিশোঠা ও দাঁ নিয়ে আমাদের উপর হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় ঘটনা স্থলে ৪ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রমক কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগ জানিয়েছেন, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ পালনে সহকারী কমিশনার ভূমি জমির দখল বুঝিয়ে দিতে যায়। বিবাদী পক্ষ লোকজন নিয়ে মব তৈরী করেন। খবর পেয়ে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে আসি। তারা যে ঘটনা ঘটিয়েছে এটি খুবই ন্যাক্কারজনক।
0 Comments