বাবলু আকন্দ: ঈদকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাকির হোসেনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে কাজ করছে একদল স্বেচ্ছাসেবক।
মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরের প্রধান সড়ক ও মোড়গুলোতে হলুদ-টিয়া রঙের বিশেষ ইউনিফর্ম পরে বাঁশি হাতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা গেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যদের। তারা শুধু যানবাহন নিয়ন্ত্রণই নয়, পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারেও সহায়তা করছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম ঈদের চাঁদ রাত পর্যন্ত চলবে। ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটায় মানুষের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া এবং যানজট কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মুক্তাগাছা শহর অংশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে স্বেচ্ছাসেবকেরা ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে মার্কেট, শপিংমল ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে মানুষের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় যেখানে যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছিল, সেখানে এখন কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
বর্তমানে প্রতিটি শিফটে ১০ জন করে স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ঈদের আগমুহূর্তে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় অটোরিকশাচালক বিল্লাল বলেন,স্বেচ্ছাসেবকদের কারণে এখন কিছুটা শৃঙ্খলা এসেছে। আগে যেখানে-সেখানে গাড়ি থামানো যেত, এখন তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে শহরে রিকশা ও অটোরিকশার সংখ্যা বেশি হওয়ায় যানজট পুরোপুরি কমেনি।
কেনাকাটা করতে আসা নুসরাত জাহান বলেন, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে শহরে মানুষের চাপ অনেক বেড়েছে। আগে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হতো, এখন চলাচল কিছুটা সহজ হয়েছে।
মুক্তাগাছা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম জনি বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা কাজ করছি। শুরুতে ১০ জন করে দায়িত্ব পালন করছি, শিগগিরই তা বাড়িয়ে ৩০ জন করা হবে। মানবসেবার এই দায়িত্ব পেয়ে আমরা গর্বিত।
মুক্তাগাছা ট্রাফিকের ইনচার্জ মৃদুল রঞ্জন দাস বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় আমরা যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছি।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মুক্তাগাছা সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সদস্য হেলাল উদ্দিন নয়ন বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। এ ধরনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
ঈদকে ঘিরে জনসমাগম বাড়লেও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় উপস্থিতিতে মুক্তাগাছা শহরের সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

0 Comments