Header Ads Widget

 


মুক্তাগাছায় অনাবাদী জমিতে সবুজ বিপ্লব

 


মুক্তাগাছা প্রতিনিধি; ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার খেরুয়াজানি ইউনিয়ন ধান ও মাছ চাষের জন্যই বেশি পরিচিত। এলাকার অধিকাংশ কৃষক জীবিকা নির্বাহ ধান চাষ ও মৎস্য খামারের ওপর নির্ভর করে। তবে রাস্তার ধারে, পুকুপাড়ে ও নদীর তীরঘেঁষা ছোট ছোট অনেক জমি বছরের পর বছর অনাবাদী পড়ে থাকত। সেই অব্যবহৃত জমিকেই এখন সবজি চাষের আওতায় এনে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

‘অনাবাদী পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি অফিসার সিলমিন জাহান ইলমার দিকনির্দেশনায় এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাফিউল করিমের প্রচেষ্টায় খেরুয়াজানি ইউনিয়নে শুরু হয় মাচায় সবজি চাষ কার্যক্রম। শুরুতে হাতে গোনা কয়েকজন কৃষক এ উদ্যোগে অংশ নিলেও বর্তমানে প্রায় ১০০ জন কৃষক এতে সম্পৃক্ত হয়েছেন। কৃষকদের উদ্যোগে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হেক্টর অনাবাদী জমিতে সবজি আবাদ হচ্ছে।

বর্তমানে খেরুয়াজানির রাস্তার ধারে, পুকুরপাড়ে ও আয়মান নদীর তীরে চোখে পড়ে সবুজে ঘেরা মাচা। সেখানে ঝুলছে লাউ, করলা, শসা, ঝিঙা, শিমসহ নানা ধরনের সবজি। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আগে এসব জমি সম্পূর্ণ অনাবাদী ছিল। এখন সেই জমিই পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।

কৃষক আবুল কালাম জানান, বিষমুক্ত পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব সবজির স্বাদ ও গুণগত মান বাজারের সাধারণ সবজির তুলনায় অনেক ভালো। ফলে স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ সরাসরি সবজি কিনতে আসে। পাইকাররাও মাচা থেকেই সবজি কিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়। এতে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি এবং বাজারজাতকরণেও সুবিধা হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে অনেকে এ উদ্যোগকে গুরুত্ব না দিলেও যারা প্রথমে সবজি চাষ শুরু করেছিলেন তারা লাভবান হওয়ায় অন্যরাও উৎসাহিত হন। এখন অনেক পরিবার বসতবাড়ির আশপাশের ছোট ছোট ফাঁকা জায়গাকেও সবজি চাষের আওতায় আনছে। এতে অনাবাদী জমির ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ পুষ্টি নিরাপত্তাও জোরদার হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিলমিন জাহান বলেন, অনাবাদী জমিকে আবাদে আনা শুধু খাদ্য উৎপাদন বাড়ায় না, বরং পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও সহায়তা করে। বিশেষ করে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের কারণে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি আরও জানান, খেরুয়াজানির কৃষকদের এই সফলতা আশপাশের এলাকাতেও আগ্রহ তৈরি করেছে। অনেকেই মাচায় সবজি চাষ দেখতে এসে পরামর্শ নিচ্ছেন।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, এ প্রকল্প দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। কৃষি অফিসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এ সবুজ প্রকল্প যেন আরও সম্প্রসারণ করা হয়। কৃষকরা যেন সহজভাবে কৃষি সুবিধা নিতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন সবসময় তৎপর রয়েছে।

তবে এলাকাবাসীর দাবি, যথাযথ সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও বাজার সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরের লাভজনক কৃষিভিত্তিক মডেলে পরিণত হবে।


Post a Comment

0 Comments