মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত ফরহাদ হোসেন জনির বাবা মো. আব্দুস সাত্তার, ছেলে জাকারিয়া, ছোট ভাই হাফেজ মো. সাগর এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ইয়াসির আরাফাত সিফাত। এ সময় নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে নিহতের বাবা আব্দুস সাত্তার বলেন, এক মাস পেরিয়ে গেলেও আমার সন্তান হত্যার ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশের এই নীরবতা আমাদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন, তিনি যেন এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।
নিহতের ছোট ভাই হাফেজ মো. সাগর বলেন, তাঁর ভাই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে হত্যাকান্ডের জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এনসিপির ইয়াসির আরাফাত সিফাত বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে কট‚ক্তির ঘটনায় যদি তাৎক্ষণিক বিচারিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে একজন মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে এত বিলম্ব কেন? তিনি দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
জনি হত্যা মামলার সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে মুক্তাগাছার ওসি কামরুল ইসনলাম জানান, এই মামলায় আশেপাশে যত সিসিটিভি ফুটেজ আছে আমরা তা সংগ্রহ করেছি এবং ঘটনাস্থলের লেকসেল নিয়ে ঐ সময়ের মধ্যে যে ফোন নম্বরগুলো ইউজ হয়েছিল সেগুলো সংগ্রহ করেছি। আমরা সনাক্তের চেষ্টা করছি। ম্যানুয়াল যত সোর্স আছে সব ইউজ করছি। এখন পর্যন্ত হত্যাকারী সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার স্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার মোবাইল চেক করেছি। জনির মোবাইলও চেক করেছি। মোবাইল দিয়েও সনাক্ত করার মত তথ্য পাওয়া যায়নি। আমাদের প্রযুক্তিগত সকল সহায়তা নিয়ে এবং ম্যানুয়ালী সোর্সের মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, একজন মানুষকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অপরাধীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহব্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা পৌর শহরের মধ্যহিস্যা এলাকায় ফরহাদ হোসেন জনি (৩৫) নামের এক যুবকের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে পরদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছে নিহতের পরিবার।

0 Comments