Header Ads Widget

 


মায়ের মৃত্যুতে শোকাহত ময়মনসিংহের সাংবাদিক বুলবুল

 


স্টাফ রিপোর্টার : দৈনিক এশিয়া বাণী ও ডেইলি মুসলিম টাইমস পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি, মুক্তাগাছা প্রেসক্লাবের জয়েন্ট সেক্রেটারি, কল্পলতা বিদ্যাপীঠের সাবেক প্রধান শিক্ষক,  সাংবাদিক এএইচএম মাজারুল আজাদ বুলবুল মাস্টারের  মমতাময়ী মা গত ১৭ আগস্ট, রবিবার দুপুর ১২টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার নিমতলা গ্রামের নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

​রবিবার বাদ এশা মরহুমার জানাজার নামাজ শেষে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী মুক্তাগাছা উপজেলার চন্দবাড়ি হাফিজিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন গোরস্থানে রাত ১০টায় দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজাপূর্ব আলোচনায় অংশ নেন মরহুমার পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও বিশিষ্টজনেরা। মরহুমার নামাজে জানাজা উত্তর আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক বুলবুলের জ্যাঠা হযরত মাওলানা আব্দুর রহিম, সাবেক পেশ ইমাম ও খতিব আলেহেরা মসজিদ গাইবান্ধা; ছোট চাচা হযরত মাওলানা মুফতি তাজুল ইসলাম, প্রভাষক বাংলাবাজার মডেল কলেজ, গাইবান্ধা; ও ফুফাতো ভাই হযরত মাওলানা মুফতি আবু সাঈদ নিজামিয়া মাদ্রাসা, ময়মনসিংহ। মরহুমার ছোট ছেলে হযরত মাওলানা মুফতি জিয়াউর রহমান জানাজার নামাজের ইমামতি করেন।

​সাংবাদিক বুলবুল জানান, তাঁর মা আজীবন অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু মায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে তিনি এতটাই মর্মাহত যে কোনো সান্ত্বনাই তাঁকে স্বস্তি দিতে পারছে না। তিনি বলেন, “আমি ২০১৭ সালে বড় ভাইকে হারিয়েছি, ২০১৯ সালে বাবাকে হারিয়েছি। আজ মাকে হারাতে হলো। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে আমি আমার সব আপনজনকে হারিয়ে ফেললাম।” শোকাহত বুলবুল সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে তাঁর মায়ের রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

​মরহুমার জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান ও যুবদল বিএনপি নেতা তারেক হাসান মুক্তা। তিনি মরহুমার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, শুধুমাত্র বিএনপি'র রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার অপরাধে "এই পরিবারটির প্রতি ফ্যাসিস্ট সরকার যেভাবে জুলুম করেছে, তা আমি চেয়ারম্যান হিসেবে প্রত্যক্ষ করেছি। মরহুমার স্বামীকে যখন রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার করা হয়, তখন আমি তাদের পাশে ছিলাম। তিনি একজন আলেম মানুষ ছিলেন, তাকে অন্যায়ভাবে জেল হাজতে রাখা হয়েছিল। আজ ফ্যাসিস্ট সরকারের কারাগার থেকে সবাই ফিরে এসেছে, কিন্তু বুলবুল ভাইয়ের বাবা ফিরে আসতে পারেননি। তিনি জেলখানায় অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। বুলবুল ভাইয়ের প্রতি যখন একের পর এক মিথ্যা মামলা শুরু হয়, তখন সেই সংবাদ শুনে দুশ্চিন্তায় তার বড় ভাই ডাক্তার আনোয়ার হোসেন লিটন হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। বুলবুল ভাই অনেক কঠিন পথ পেরিয়ে এসেছেন।"

​জামায়াত নেতা মুজাহিদ মরহুমাকে একজন শহীদের স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "বুলবুল ভাইয়ের পরিবার একটি শহীদি পরিবার। বুলবুল ভাইয়ের মা মানে আমার মা। আমি সকলের কাছে মায়ের জন্য দোয়া প্রার্থনা করছি।"

​১৯ আগস্ট, মঙ্গলবার বাদ জোহর মরহুমার কুলখানি ও বিশেষ দোয়া সম্পন্ন হয়েছে। সাংবাদিক বুলবুল এই কঠিন সময়ে যারা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

Post a Comment

0 Comments