হালুয়াঘাট প্রতিনিধি : জীবিত এক ব্যক্তিকে মৃত এবং বিবাহিত হওয়া সত্তে ও অবিবাহিত দেখিয়ে তাঁর সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সৎ ভাই,বোন,চাচাতো ভাই ও ভাতিজার বিরোদ্ধে। যার নেপথ্যে রয়েছে দুই দলিল লেখক।
জানাযায়, হালুয়াঘাট উপজেলার মহিষলেটি গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের পুত্র মোঃ ওয়াজেদ আলীকে জীবিত থাকা অবস্থায় মৃত এবং বিবাহিত হওয়া সত্তে¡ও অবিবাহিত দেখিয়ে তাঁর সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে একাধিক দলিল ও নামজারি করিয়ে নেন সৎ ভাই রিয়াজ উদ্দিন, বোন রুকসানা,চাচাতো ভাই আজহার,ভাতিজা সাদ্দাম। নেপথ্যে থেকে সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ করে দিয়েছেন দলিল লেখক জুবায়ের হোসেন ও সৈয়দ গোলাম মোস্তুফা বাবুল।
অনুসন্ধানে দেখাযায়, ২৭৪৫(ওঢ-ও) ২০২০-২০২১ নম্বর নামজারি মোকদ্দমার মাধ্যমে ৭৫২ নম্বর খারিজ খতিয়ান খোলা হয়। পরবর্তীতে ২৫ মে ২০২২ তারিখের ৩৩৩৩ নম্বর দলিলের ৭ নম্বর কলামে ওয়াজেদ আলীকে মৃত ও অবিবাহিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ তিনি জীবিত ও বিবাহিত এবং তিন সন্তানের জনক।
এছাড়া ১৭ আগস্ট ১৯৮৯ সালের ৭০৯৮ ও ৭০৯৯ নম্বর সাব-কবলা দলিলে ওয়াজেদ আলীকে দাতা হিসেবে দেখানো হলেও তিনি কোন দলিলে স্বাক্ষর করেননি বলে দাবী করেন ভুক্তভোগী মোঃ ওয়াজেদ আলীর স্ত্রী হাসনা হেনা।
১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে একই দলিল লেখকের মাধ্যমে ৫২৩১ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে তাঁর দেবর রিয়াজ উদ্দিন ও তাঁর স্বামী মোঃ ওয়াজেদ আলীর নামে ৫২৩২ নম্বর দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। পরবর্তীতে নামজারি করতে গিয়ে ৪১০ নম্বর বি.এস. খতিয়ানের সংশ্লিষ্ট দাগের সম্পূর্ণ জমি দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে তাঁরা দেখতে পান। এতে জমির প্রকৃত পরিমাণ, মালিকানা ও অংশীদারিত্ব নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে সব দলিল, রেজিস্ট্রি রেকর্ড ও নামজারির নথি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আবেদন করেছেন হাসনা হেনা।
0 Comments